অনৈতিক | ONAITIK

ManavNama
an Inquiry

Join our upcoming 5 day Residential to explore The Art of Being Human.

Learn More

Melange
Our Blogs

Read inspiring stories and cultural insights from around the globe.

Read Now

Jazbaat
Festival

Experience electrifying notes of music celebrating rhythm and culture.

Explore

On and Of Ethics

।। বিশ্বদীপ সেনশর্মা ।।


ঘুম ভাঙ্গার পর একটা হাল্কা আমেজ শরীরে-মনে লেগে থাকে। কিছুক্ষণ সেটা উপভোগ করে সুমন চোখ খুললেন।মারিয়া'কে ডেকে বললেন, কফি দিতে। তারপর ব্রাশে পেস্ট চাপিয়ে বাথরুমে ঢুকলেন ।

বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখলেন মারিয়া শুকনো মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। তাঁকে দেখে বলল, “সামথিং রং..। আই কান্ট স্টার্ট দ্য কফিমেশিন। ” সুমন কিছুটা অবাক হয়ে বললেন “মেশিন খারাপ হবে হয়ত। ” মারিয়া বলল,” মনে হয়না। প্যানেল থেকে কোন কম্যান্ড দেওয়াই যাচ্ছেনা। আমি আভেনে চেষ্টা করলাম, সেখানেও একই সমস্যা। ”

ঘরের প্রায় প্রতিটি জিনিষ ইন্টারনেটে যুক্ত। আজকাল অধিকাংশ কোম্পানি খরচা বাঁচাতে মেশিনগুলির সফটওয়্যার ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত তাদের সেন্ট্রাল সার্ভারে রাখে। তাই নেট কনেকশন থাকা জরুরী।

তিনি মারিয়াকে বললেন,বাকি গ্যাজেটসগুলি চেক করতে। মারিয়া দেখে এসে জানাল এসি, গিজার, ফ্রিজ কোনটাই কাজ করছেনা

তিনি শেষ চেষ্টা হিসাবে লিভিং রুমে গিয়ে দেয়ালের ডিসপ্লে অন করলেন। সত্যিই নেট কনেকশন নেই দেখাচ্ছে। এরকম আগে কখনও হয়নি। শহরে কি বড় কোন যান্ত্রিক গোলযোগ হয়েছে? কিন্তু সেটা বোঝা যাবে কি করে?

তিনি মোবাইল হাতড়ে তার ফ্ল্যাটের অটোমেশন কোম্পানির নম্বর বার করে ডায়াল করলেন। কল লাগছেনা। তাঁর মোবাইলও ওয়াই-ফাই র‍্যুটারে যুক্ত, নেট কাজ না করলে সেও করবেনা। বস্তুত, আজকাল রাস্তাঘাটেও কয়েক হাত দূরেদূরে ওয়াই-ফাই বসান থাকায় সবাই তাই ব্যবহার করে, অন্তত শহরের মধ্যে মোবাইল টাওয়ারের বিশেষ দরকার পড়েনা৷

তাঁর বাড়ির নেটওয়ার্ক কেউ হ্যাক করেনি ত,? সেটাও প্রায় অসম্ভব। তাঁর নিজের কোম্পানিই দেশে বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নেটওয়ার্ক সিকিওরিটির দায়িত্বে আছে। একই উন্নত প্রযুক্তি তার ফ্ল্যাটের নেটওয়ার্কেও।

এখন নীচে নেমে সাহায্য চাওয়া ছাড়া উপায় নেই। যদিও বাস্তবে কাজটা কঠিন হবে। তিনি নিশ্চিত তাঁর গাড়িও কাজ করবেনা। একমাত্র উপায় টাওয়ারে কারও বাড়িতে নক করে সাহায্য চাওয়া। কিন্তু এছাড়া অন্য উপায় নেই।

তিনি মারিয়াকে ব্যাপারটা বলে জামাকাপড় বদলে নিলেন।ফ্ল্যাটের দরজায় গিয়ে অ্যাকসেস কার্ড ছোঁয়ালেন। সবুজ আলোর বদলে কয়েক মুহূর্ত পরে ডিসপ্লে প্যানেলে মেসেজ এল, “ইনভ্যালিড কার্ড। অ্যাকসেস ডিনায়েড। ”

দরজাটা ধরে প্রাণপণে টানাটানি করতে করতে তাঁর মনে হল, এটা হাই-সিকিওরিটি ট্যাম্পারপ্রুফ সলিড মেটালের দরজা। জোর করে খোলা বা ভেঙ্গে ফেলা প্রায় অসম্ভব।

দুই সুমনের সঙ্গে এই ফাঁকে আলাপ সেরে নেওয়া যাক। সুমন একটি বিখ্যাত সাইবার সিকিওরিটি সংস্থার কর্ণধার। তাঁদের কাজ হল ক্লায়েন্টের নেটওয়ার্কে হ্যাকিং, ভাইরাস বা ম্যালওয়ার অ্যাটাক ইত্যাদির থেকে সুরক্ষা দেওয়া। কয়েক বছর আগে তাঁর প্রতিষ্ঠা করা এই সংস্থাটি এখন আকারে ও খ্যাতিতে বেড়েছে। বেশ কিছু নামী সংস্থার সাইবার নিরাপত্তার ভার তাদের হাতে। জনাকুড়ি ছেলেমেয়ে কাজ করে। সুমন নিজে এখন টেকনিক্যাল কাজের বদলে মার্কেটিং ও অন্যান্য ব্যবসায়িক কাজেই বেশি সময় দেন।

আপাতত তিনি সোফায় বসে ফলের রস খাচ্ছেন।সামনে একটি প্লেটে কিছু ফল ও চিজ রাখা আছে। তবে ঐ সামান্য খাবারটুকু ছাড়া আর বিশেষ কিছু নেই। আজকেই মারিয়ার ফ্রিজ স্টক করার দিন ছিল।

সুমনকে দেখে অবশ্য বিশেষ উদ্বিগ্ন মনে হচ্ছেনা।বরং খাওয়া শেষ করে তিনি গলা দিয়ে একটি তৃপ্তিসূচক আওয়াজ করলেন। মারিয়া এসে গ্লাস ও প্লেট নিয়ে গেল। তিনি সোফায় আধা হেলান দিয়ে চোখ বুজলেন।

তাঁর অফিসে এখন কি হচ্ছে? ছেলেমেয়েরা নিশ্চয়ই আসতে শুরু করেছে। তাঁর সুকন্যার কথা মনে হল। তাঁর টীমের সবথেকে তুখোড় ও বুদ্ধিমতি মেয়ে। সম্প্রতি তিনি ওকে প্রোমোশন দিয়ে নিজের এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট করেছেন। তিনি ব্যবসায়িক কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তাঁর হয়ে বিভিন্ন টেকনিক্যাল প্রোজেক্ট ওই দেখাশুনো করে। কোনভাবে যদি ওর সঙ্গে যোগাযোগ করা যেত।

তিনি সোফা ছেড়ে উঠে ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ালেন। অনেক নীচে কালো কালো চলন্ত ফুটকি দেখা যাচ্ছে। জনবহুল শহরের ঠিক মাঝখানে অভিজাত আবাসনে অসহায় ভাবে আটকে রয়েছেন ভেবে বেশ মজা লাগল। অফিস থেকে কেউ কি যোগাযোগ করতে আসবে? না'ও আসতে পারে। তিনি মাঝেমধ্যেই অজ্ঞাতবাসে চলে যান, মোবাইল অফ করে রাখেন। কেউ না এলে কি হবে? হ্যাকার যদি যোগাযোগ না করে, বহুদিন পরে কি পুলিশ এসে ফ্ল্যাট থেকে তাঁর কঙ্কাল উদ্ধার করবে? ভাবতে গিয়ে সুমনের মুখে একচিলতে হাসি ফুটে উঠল। লোকে অকারণে ভয় পায় তাঁর ক্ষেত্রে কি উল্টোটা হচ্ছে?মন বলছে কিছু একটা হবে।

এইসময় বিদ্যুচ্চমকের মত তাঁর মনে পড়ল সুকন্যা কিছুদিন আগে তাঁর ও অন্য ডিরেক্টরদের ফ্ল্যাটে অফিসের সঙ্গে ভিপিএন কনেকশন।দিয়েছে। এটি হ্যাক করা প্রায় অসম্ভব। ব্যবসা সংক্রান্ত খুব সেন্সিটিভ তথ্য বা কথাবার্তার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। নেট না থাকলেও এটির কাজ করা উচিত।

তিনি প্রায় দৌড়ে গিয়ে বসার ঘরের দেওয়াল জোড়া স্ক্রিনে ভিপিএন আইকনটি ক্লিক করলেন। স্ক্রিনে প্রোটোকলের আদানপ্রদান শুরু হল। একটু পরেই পর্দায় সুকন্যার মুখ ভেসে উঠল। তিনি স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন।সুকন্যা উদ্বিগ্ন ভাবে বলল, “হোয়াট হ্যাপেনড সার, আর ইউ ওকে?” তিনি দ্রুত সব বললেন। সুকন্যার চোখ কপালে উঠে গেল। সে বিড়বিড় করে বলল, ” এত সহজে হ্যাক করে নিল?”

তারপর সে বলল, স্যার, আধঘন্টা সময় দিন। দেখি আই পি' অ্যাডড্রেসটা (আই পি' হল ইন্টারনেট প্রোটোকল, অনেকটা কম্পিউটারের ঠিকানা বলা যেতে পারে) ট্রেস করা যায় কিনা।

সে চলে গেল।

আধঘন্টা পরে ফিরে এসে বলল,” স্যার, যা ভেবেছিলাম, হ্যাকার অনেকগুলি প্রক্সি সার্ভারের আড়ালে আছে। এখন যে আই পি অ্যাডড্রেসটা পাচ্ছি, সেটা ইউরোপের কোথাও। কিন্তু আসলে হয়ত এই শহরেই কোথায় আছে। তাছাড়া এরা ঘনঘন আই পি বদলাতেও থাকে। আমি কি সরকারের সাইবার সেলের সাহায্য নিতে পারি? ওরা অনেক বেশি রিসোর্সফুল।”

সুমন দাঁতের ফাঁকে হিসহিস করে বললেন, “বোকার মত কথা বোলনা। আমরা সিকিওরিটি সলিউশন বেচে খাই, জানাজানি হলে ব্যবসা লাটে উঠবে।”

সুকন্যা অপ্রস্তুত হয়ে চুপ করে গেল। তারপর বলল,”ঠিক আছে স্যার, আমি নিজেই ট্রেস করছি।তবে সময় লাগবে। আমি অবশ্য ওকে যোগাযোগ করতে বলে একটা মেসেজ'ও পাঠিয়েছি। ”

সুকন্যা চলে যাবার প্রায় সাথেসাথেই পর্দায় একটি ছেলের মুখ ভেসে উঠল। তেকোনা মুখ, চাপা চোয়াল, চওড়া কপাল। বোধহয় চল্লিশের কাছাকাছি বয়েস হবে। মুখে একটা নির্লিপ্ত উদাসীন ভাব। তবে চোখ দুটি জ্বলজ্বল করছে।ছেলেটি হেসে বলল, “ভাল আছেন, স্যার? অনেকদিন পরে দেখা হল।”

প্রথমে না চিনলেও ওই চোখ দেখেই সুমনের মনে পড়ে গেল। তন্ময়। যখন কোম্পানি চালু করেছিলেন, অনেকদিন তার সঙ্গে কাজ করেছে। তাঁদের বিভিন্ন প্রোডাক্টের বেসিক ডিজাইন ওরই হাতে করা। ছেলেটা অনেকদূর যেতে পারত। কিন্তু হঠাৎ একদিন সব ছেড়েছুড়ে কোথায় চলে যায়। এবং এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগেও বেমালুম গায়েব হয়ে যায়। ওর বন্ধুবান্ধব বা সহকর্মীরা অনেক চেষ্টা করেও ওর খোঁজ পায়নি

ভাবতে ভাবতে তাঁর হঠাৎ খেয়াল হল তন্ময়ই তাহলে হ্যাকার। তন্ময় তাঁকে লক্ষ্য করছিল।সে লজ্জিত ভাবে বলল,” হ্যাঁ স্যার, কাজটা আমিই করেছি। আপনাকে একটু কষ্ট দিলাম ঠিকই কিন্তু না হলে আপনি সমস্যাটা বুঝতেন না আপনি একসময় হাতে ধরে কাজ শিখিয়েছিলেন কিন্তু এখন দুনিয়া পালটে গেছে। আমার মত হ্যাকাররা নিত্য-নতুন কায়দা-কানুন বার করছে। আমার মনে হয় আপনাদের আরও সাবধান হওয়া উচিত। তাই ভাবলাম এই ভাবে কাজটা করলে আপনি ব্যাপারটার গুরুত্ব বুঝবেন। আপনাদের সিকিওরিটি' সিস্টেমে ঠিক কি কি সমস্যা রয়েছে আমি আপনাকে পাঠিয়ে দেব।আপনাদের ওই সুকন্যা বলে মেয়েটি খুব স্মার্ট, ঠিক সামলে নেবে ।


সুমন অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন।তন্ময় হেসে বলল, “স্যার, এটা আমার গুরুদক্ষিণা ধরে নিন। আপনার নেটওয়ার্ক ইতিমধ্যেই আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছি আর নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা যে আপনাদের নেটওয়ার্ক ব্রিচ করেছিলাম একথা কাকপক্ষীতেও জানবেনা।”

সুমন উঠে গিয়ে দরজায় কার্ড লাগালেন, দিব্যি কাজ করছে। মারিয়াকে কফি বানাতে বলে সুমন ফিরে এলেন। বললেন, “তুমি।"আমরা." বললে .... মানে তুমি এখন কোথায় কাজ করছ?”

তন্ময় হাসল, “বলল, আপনাকে বলতেই পারি। “আনএথিক্যাল" বলে একটা সংস্থার নাম শুনেছেন?” সুমন চমকে উঠলেন। তাদের লাইনে “আনএথিক্যাল" - এর নাম কে না শুনেছে? শোনা যায় এরা অর্থের বিনিময়ে নামীদামী কোম্পানি'র এমনকি সরকারেরও ওয়েবসাইট ও ডেটাবেস হ্যাক করে। তবে এরা কারা, কোথা থেকে বা কি ভাবে কাজ করে এই গোটা ব্যাপারটাই রহস্যে মোড়া। অনেক দেশের সরকার অনেক চেষ্টা করেও এদের খোঁজ পায়নি। এমনকি বাস্তবে আদৌ এদের অস্তিত্ব আছে কিনা তা নিয়েও অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

তাঁর প্রতিক্রিয়া দেখে তন্ময় মৃদু হাসল, “বলল, হ্যাঁ স্যার, আমরা সত্যিই আছি। তবে যা শোনেন সেভাবে নয়।খরচা চালান'র জন্য টাকা নিয়ে কিছু কাজ আমরা করি ঠিকই তবে আমাদের আসল কাজ অন্য। আপনি ত জানেন, আজকাল সাইবার ওয়ার্ল্ডে রীতিমত টাকার খেলা চলছে। এই শতাব্দীর শুরুতে ইন্টারনেট সমাজের একটা শ্রেণীর মানুষকে উঠে আসতে সাহায্য করেছিল। এখন ছবিটা পালটে গেছে। অধিকাংশ ওয়েবসাইট এখন আর ফ্রী নয়, যাদের পয়সা আছে শুধু তাদের জন্য। যেন পাড়ায় পাড়ায় বিনামূল্যে লাইব্রেরি খুলে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ভাল বই পড়তে গেলে পয়সা চাই। এমনকি ফায়ারওয়াল, অ্যান্টিভাইরাস এসবও বেশ চড়া দামে বিক্রী হচ্ছে। সেই সঙ্গে যে কোন উন্নত পরিষেবা যেমন ইন্টেলিজেন্ট সার্চ বা এ আই বেসড অ্যাপ্লিকেশনও ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। সরকার কিছু জিনিষ ফ্রী'তে বা কমপয়সায় ব্যবস্থা করে দেয় বটে তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।”

সে একটু থামল, তারপর বলল ”প্রযুক্তির কল্যাণে এখন বহু সমস্যার সমাধান হয়েছে, প্রোডাক্টিভিটি বেড়েছে,সরকারের হাতে অর্থের অভাব নেই। কিন্তু মানুষ ত দুবেলা দুমুঠো খেতে পেলে আর মাথার উপর ছাদ থাকলেই সুখী হয়না, সে চায় নিজের মত করে ভাল করে বাঁচতে । এ যুগে ইন্টারনেট, এ আই বা সাইবার সিকিওরিটি এগুলো হল, জল- বিদ্যুৎ -রাস্তাঘাটের মত, ওগুলো না পেলে মানুষকে আটকে থাকতে হয়।”

তন্ময় একটু থামল, তারপর বলল,”তো আমরা চেষ্টা করি এই কোম্পানিগুলির দুর্বলতা ও ফাঁক-ফোঁকর খুঁজে বার করে তাদের উপর পলিসি পাল্টানর জন্য চাপ দিতে। কখনও কাজ হয় কখনও হয়না। তবে চেষ্টা করে যাই। অনেকে বলেন আমরা না থাকলে নাকি অবস্থা আরও খারাপ হত। ”

সুমন অবাক হয়ে শুনছিলেন। বললেন, “তোমরা.. মানে.. কোথা থেকে কাজ কর? ”

তন্ময় হেসে ফেলল। বলল, “অনেকেই ভাবেন আমরা কোন নির্জন দ্বীপে ঘাঁটি গেড়ে কাজ করি। আসলে আমরা সারা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে আছি। যারা আমাদের মত ভাবে সেইরকম কিছু ছেলেমেয়ে।এদের অনেকেরই আলাদা সামাজিক পরিচয় আছে। আপনি শুনলে অবাক হবেন, কিছু দেশে উচ্চপদস্থ সরকারী আমলারা'ও আমাদের সাহায্য করেন । তবে আমাদের বিপ্লব করা বা ক্ষমতা দখল করে নেবার কোন বাসনা নেই। কারণ ক্ষমতার স্বাদ পেলে মানুষ পালটে যায়। এভাবেই চলুক। তাছাড়া আমাদের চিন্তা-ভাবনাই যে একশভাগ ঠিক তাই বা কে বলতে পারে? এটাও ত ঠিক যে সমস্যা সত্ত্বেও মানুষ গত কয়েক দশকে অনেক এগিয়েছে। যেটা দরকার তা হল ভারসাম্য বজায় রাখা। আমরা সেটুকু করতে পারলেই খুশী।”

সুমন একটু অন্যমনস্ক হয়ে গেছেন। তাঁর মনে পড়ছে অনেক বছর আগে একটা একচিলতে ঘরে তিনি, তন্ময়, আরও কেউ কেউ টার্মিনালের সামনে ঝুঁকে পড়ে বসে আছেন। তখন স্বপ্ন দেখতেন কম খরচে সকলের সাধ্যের মধ্যে নেট- সিকিওরিটি'র ব্যবস্থা করা। কিন্তু ব্যবসা একটু বড় হবার পর দেখলেন ব্যাঙ্ক, শেয়ারহোল্ডার, সরকার সকলেই চায় লাভ, আরও বেশি লাভ। ব্যবসায় টিঁকে থাকতে হলে সে দাবি মানতেই হবে।

তন্ময় একটু পরে বলল, “চলি স্যার। আবার কখনও দেখা হয়ে যাবে। ভাল থাকবেন। ”

ছবিটা মিলিয়ে গেল। একটু পরেই সুকন্যা কল করল। উত্তেজিত ভাবে বলল, “স্যার, এই লোকটি একটি জিনিয়াস। আমি শেষ পর্যন্ত ওকে ট্রেস করেছি কিন্তু লাভ হলনা। কিন্তু ও দেখছি ঠিক করে দিয়ে গেছে। ” সুমন হাসিমুখে বললেন, ”হ্যাঁ।” সুকন্যা বিস্মিত ভাবে বলল, “কিন্তু কেন করেছিল? রেস্টোরই বা করল কেন? আপনাকে কি কল করেছিল? ” সুমন বললেন, ”হ্যাঁ। সে অনেক গল্প।পরে কখনও বলব। এখন বল, ওর আসল লোকেশন কি বার করতে পেরেছিলে? ” সুকন্যা এবার ফিক করে হেসে ফেলে বলল, “সে ভারী মজার গল্প স্যার ।আমারও প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। ও আসলে কাজ করছিল আপনার ফ্ল্যাট থেকে। ” সুমনের মুখ বিস্ময়ে হাঁ হয়ে গেল। সুকন্যা হাসতে লাগল। তারপর বলল, “আসলে কিছুদিন আগেই ও নেটওয়ার্কে ঢুকে মারিয়ার ব্রেনে কিছু প্রোগ্রাম ডাউনলোড করে দিয়ে যায়।আমার ধারণা সেটা আজ সকালে সক্রিয় হয়ে মারিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে। তারপর নির্দেশ অনুযায়ী পুরো হ্যাকিং-এর কাজটা মারিয়াই করেছে। ও কোথা থেকে কবে কাজটা করেছিল সেটা এখন বার করা প্রায় অসম্ভব। ”

সুমন একটুক্ষণ চুপ করে থেকে হো হো করে হাসতে শুরু করলেন। হাসি আর থামেই না। সুকন্যা সন্ধিগ্ন গলায় বলল, “স্যার, আপনি কি এঁকে চেনেন? ”সুমন হ্যাঁ ও না'র মাঝামাঝি একটা হাসি দিলেন। সুকন্যা বলল, “স্যার, এঁকে আমাদের টীমে নিয়ে আসা যায়না? অনেককিছু শেখা যেত। ”

তিন শহরের বাইরের একটি বসতি। কিছুদিন আগেও এখানে বস্তি ছিল। এখন সরকার সবাইকে পাকাবাড়ি করে দিয়েছেন। জল, বিদ্যুত, চিকিৎসার ব্যবস্থাও আগের থেকে অনেক ভাল। অবশ্য শহরের মানুষ এখনও এদিকে বিশেষ আসেনা।

রাত্রি দুই প্রহর। পাড়া ঘুমিয়ে পড়েছে।শুধু পাড়ার কুকুরগুলি হঠাৎ হঠাৎ চিৎকার করে উঠছে। একটি আবাসনের দোতলায় এখনও আলো জ্বলছে। নীচ থেকে দেখা যাচ্ছে জানালার কাঁচে ছায়া পড়ছে। তন্ময়ের দীর্ঘ চেহারাটা ল্যাপটপের উপর ঝুঁকে আছে। পিছনে মশারির মধ্যে তার স্ত্রী ও আট বছরের ছেলে সোহন ঘুমিয়ে আছে।

একটু পরে সে ল্যাপটপ বন্ধ করে উঠে এসে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াল। আজ আকাশে মেঘ নেই, তারাগুলি হাসিমুখে ফুটে আছে। দূরে শহরে আকাশ-ছোঁয়া আবাসনগুলির আলো দেখা যাচ্ছে। লক্ষ জীবন, লক্ষ আশা আকাশের তারার মতই দপদপ করছে।

হাল্কা পায়ের শব্দ শোনা গেল। সে মুখ ঘোরাবার আগেই সোহন এসে তার পা জড়িয়ে ধরেছে। সে ছেলেকে কোলে তুলে নিল। সোহম তার বুকে মুখ ডুবিয়ে রইল। একটু পরে প্লেনের শব্দ শুনে সে মুখ তুলে তাকাল। অনেক উঁচু দিয়ে একটা জেট প্লেন উড়ে যাচ্ছে, একজস্ট থেকে সাদা ধোঁয়ার স্রোত বেরিয়ে তীক্ষ্ম শলাকার মত আকাশ চিরে দিয়ে যাচ্ছে। এ দৃশ্য পুরান হয়না।

সোহন খুশীর গলায় বলল, “বিউটিফুল, না বাবা? ” তন্ময় হেসে মাথা ঝাঁকাল। সোহন বলল,” জানো বাবা, স্কুলে হিস্ট্রি ম্যাম বলছিলেন, অনেক বছর আগে নাকি কলের জল, আলো, টিভি, কম্পিউটার এসব কিছু ছিলনা। ভাল রাস্তাঘাট ছিলনা। অসুখ করলে ওষুধ ছিলনা। অনেকে পেট ভরে খেতে পেতনা। ট্রু বাবা? ”

তন্ময় মৃদু হেসে বলল, ‘হ্যাঁ বাবা।”

সোহন দূরের আলো-ঝলমল আকাশ-ছোঁয়া শহরের দিকে হাত দেখিয়ে বিস্ময়ের গলায় বলল, ”আর এখন এই সব কে বানাল বাবা? ” তন্ময় হেসে বলল, “সবাই মিলে… অনেকদিন ধরে…. একটু একটু করে। তবে কাজ ফুরোয়না। “ তারপর সে সোহনের গালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিয়ে বলল, “তুমিও বড় হয়ে অনেককিছু বানিও, কেমন? ” সোহন কি বুঝল কে জানে তবে খুশী হয়ে ঘাড় নাড়ল।


About the Author:

Biswadip Sensharma is an engineer, now settled in Mumbai with his family. He loves to travel and write and also does a bit of social work. His stories have been published in Anandabazar ( Rabibasaryo), Sananda, Unish- kuri and other magazjnes. Thesedays, he writes mostly on Sci-fi and related generes. "Bhoyer Vaccine" , a collection of his recent stories, has been published by a reputed publisher in Kolkata.( Those interested can collect from the link below)



Comments & Related Articles

Read more reflections on life, art, and the human spirit from our contributors.

Ganga Zuari International: Connecting Cultures Across the Globe

Join us in promoting cross-cultural dialogue, preserving heritage, and fostering global collaborations through art, literature, music, and festivals.

Latest Events View Activities
Blog - Mélange Read Articles