যে সুর বাজে মানব মাঝে - ২ (ভারত) |

ManavNama
an Inquiry

Join our upcoming 5 day Residential to explore The Art of Being Human.

Learn More

Melange
Our Blogs

Read inspiring stories and cultural insights from around the globe.

Read Now

Jazbaat
Festival

Experience electrifying notes of music celebrating rhythm and culture.

Explore

Story


অরিজিৎ কথঞ্চিৎ

যে সুর বাজে মানব মাঝে - ২ (ভারত)

‘যাহা নাই ভারতে, তাহা নাই মহা-ভারতে।’ পৃথিবীর ক্ষেত্রে দেখা প্রয়োজনগুলি ভারতের ক্ষেত্রে কী অবস্থায়- দেখা যাক।

  • জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ
  • খাদ্য
  • বস্ত্র
  • বাসস্থান
  • স্বাস্থ্য
  • শিক্ষা
  • ইন্টারনেট সুবিধা
  • গণতন্ত্রের প্রসার
  • সমৃদ্ধি

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ

বেহিসাবী বাড়াচ্ছ লোক, ভয় দেখি না কোন
খালি পেটে থাকতে হবে, এই কথাটি জেনো।

১৯৫১ সালে ভারতের জনসংখ্যা ছিল ৩৬ কোটির কাছাকাছি, ২০১১ সালে তা তিনগুণেরও বেশী হয়ে ১২১ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, ভীতিজনক এই সংখ্যাবৃদ্ধি সত্ত্বেও খাদ্যাভাব তীব্রতর তো হয়ই নি, বরং সাধারণভাবে কমেছে তার প্রভাব। তা ছাড়া মোট সংখ্যার ভবিষ্যৎ প্রবণতাটি বাড়তি, না কমতি ধরতে পারে না। তার জন্য জন্মহার (এবং সম্ভব হলে মৃত্যুহার) দেখা প্রয়োজন। এখন সারা পৃথিবীতে সাধারণভাবে জন্মহার কমছে, ভারতও তার বাইরে নয়। ২০১৯-২০২১ এর জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা (NFHS-5) অনুযায়ী আমাদের দেশ জন সঙ্কোচনের মুখে দাঁড়িয়ে।

ভারতের সর্বত্র জনসংখ্যাবৃদ্ধির হার নিম্নমুখী। তবু, তুলনামূলকভাবে ইএজি প্রদেশগুলি প্রজননের ক্ষেত্রে বেশী উর্বর হবার কারণ সম্ভবতঃ শিশুমৃত্যুর প্রকোপ। বহির্বিশ্বেও প্রায় ব্যতিক্রমহীন ভাবে শিশুমৃত্যু ও জনসংখ্যাবৃদ্ধির উচ্চ হারের সমাপতন দেখা যায়। যেমন, আফ্রিকায় শিশুমৃত্যু বেশী, সেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও বেশী। প্রসঙ্গতঃ, ১৯৫১ সালে ভারতে মহিলা প্রতি গড় সন্তানসংখ্যা ছিল ৩.৪, এখন সেই সংখ্যাটি ২ এর কাছাকাছি, জনসংখ্যা এক জায়গায় রাখতে গেলে মহিলা প্রতি ২.১টি সন্তান হওয়া প্রয়োজন।

ছবি ৩*- পাশের ম্যাপদুটির লাল অঞ্চলগুলিতে দশ বছরে মানুষের ২৫ শতাংশ বা তার বেশী সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটেছে। সেন্সাস ২০০১ এবং ২০১১-র তুলনামূলক ম্যাপে লাল অঞ্চলগুলির সঙ্কোচন উল্লেখযোগ্য।

ছবি ৪*- পর পর তিনটি সেন্সাসের ম্যাপে শিশুজন্মের হার কালানুক্রমিক হ্রাসপ্রাপ্তির প্রতিফলন।

খাদ্য

ছবি ৫*- ছয় দশক ব্যাপী ভারতের জিডিপি (লাল), খাদ্যোৎপাদন (হলুদ) ও জনসংখ্যাবৃদ্ধি (নীল)-র ছবিটি দেখাচ্ছে ১৯৫০ সালের পরনির্ভরতার প্রান্ত থেকে দেশটি কীভাবে খাদ্য ও অন্যান্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে ছাপিয়ে গিয়েছে জনসংখ্যাবৃদ্ধির হার ও তজ্জনিত সম্ভাব্য সঙ্কট।

ছবি ৬- ২০১১ সালের পর ভারতে জনগণনা হয় নি। সেই জনগণনার সরকারী তথ্য বলছে ১৯৫১ ও ২০১১ সালে ভারতের লোকসংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৩৬ কোটি ও ১২১ কোটি (৩৬,১০,৮৮০৯০ ও ১২১,০১,৯৩৪২২)। ওপরের ছবিটি দেখাচ্ছে ঐ সময়ের ব্যবধানে শস্য উৎপাদন ৫০.৮২ থেকে বেড়ে ২৪৪.৪৯ মিলিয়ন টন-এ পৌঁছে গেছে (এটিও সরকারী তথ্য)। অর্থাৎ,যে সময়ে মানুষ বেড়েছে ৩.৩৫ গুণ, খাদ্যোৎপাদন বেড়েছে ৪.৮ গুণ। (সূত্র- প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো, ভারত সরকার)

বস্ত্র

একটু খাবার জোটেও যদি, কাপড় কি আর জুটবে?
আধপেটা খেয়ে মানুষ বাকল পরে বাঁচবে।

১৯৫১ থেকে ২০১১ সালে ভারতে তুলো উৎপাদন প্রায় ১১.৬ গুণ বেড়ে গিয়েছে (৩০.৪০ বেল থেকে ৩৩০ বেল; ১ বেল = ~ ২২৭ কেজি)। ঐ একই সময়ে তুলো চাষের জমির উৎপাদনশীলতা বেড়েছে সাড়ে পাঁচ গুণের ওপর (৮৮ বেল থেকে ৪৯১ বেল)। যদিও কৃত্রিম ফাইবার-এর কালানুক্রমিক তথ্য সহজলভ্য হল না, তবু মনে রাখতে হবে বালিশ থেকে ব্লেজার-এ কৃত্রিম ফাইবার-এর যে বিশ্বব্যাপী সর্বপ্লাবী অনুপ্রবেশ ঘটেছে, ভারত সেটির ব্যতিক্রম নয়। নিঃসন্দেহে বলা যায়, কৃত্রিম ফাইবারকে হিসেবের মধ্যে নিতে পারলে বস্ত্র উৎপাদন জনসংখ্যাবৃদ্ধির আওতার অনেক ওপরে পৌঁছে যাবে।

বাসস্থান

ভারতে জনসংখ্যার অভাবনীয় বৃদ্ধি দেশকে আরও অনেক সমস্যার সাথে সাথে ভয়ঙ্কর গৃহহীনতার অভাবের দিকে ঠেলে দিতে পারত। মানুষের উদ্যম, বিজ্ঞান ও সরকারী নীতি (রাজনীতিকদের অবদান অনস্বীকার্য) সেটি হতে দেয় নি।

ছবি ৭*- ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ভারতে ১৭.৭ লক্ষ মানুষ গৃহহীন, যা তৎকালীন মোট জনসংখ্যার ০.১৫%। তার পর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি বাসস্থানের ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেবার ফলে এই অনুপাত কমে যাবে এমন আশা করা যায়। কিন্তু, ঠিক কতটা কমেছে জানার জন্য পরবর্তী জনগণনার জন্য অপেক্ষা করা প্রয়োজন।

জনগণনা তথ্যের ভিত্তিতে শেল্টার পত্রিকার মার্চ, ২০১৪ সংখ্যায় সংযুক্তা সাত্তার লিখেছেন ২০০১ সালে ভারতে গৃহহীন ছিলেন ১৯,৪৩,৭৬৬ জন। ২০১১ সালে সেই সংখ্যাটি কমে দাঁড়িয়েছে ১৮,১৫,৮৫৪। অবস্থা একই রকম থাকলে বর্ধিত মোট জনসংখ্যার সমানুপাতে (১০৩ কোটি থেকে বেড়ে ১২১ কোটি) গৃহহীনদের সংখ্যাটি ২০১১ সালে আরও অন্ততঃ সাড়ে চার কোটির বেশী হবার কথা ছিল (২২,৮৩,৪৫৩ জন)।

স্বাস্থ্য

নানা রোগে অকালমৃত্যু- লেখা যমের খাতায়,
বিজ্ঞানী আর বৈদ্য মিলে মুছে ফেলে তায়।

ভারতে ভ্যাক্সিনেশনের ইতিহাস অনেক পুরনো (প্রথম বসন্তের টিকা দেওয়া হয় ১৮০২ সালে)। স্বাধীনতার আগেই মুম্বই-এর হ্যাফকিন ইন্সটিট্যুট প্লেগ এর টিকা তৈরি করে। বসন্ত, কলেরা ও টাইফয়েড-এর টিকা দেওয়া ইংরেজ আমলেই শুরু হয়েছিল। স্বাধীনতার সময়ে যক্ষ্মারোগ (টিবি) ক্রমশঃ মহামারীর আকার নেয় (ঐ রোগেই গণিতবিদ শ্রীনিবাস রামানুজন আর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের অকালপ্রয়াণ ঘটে। চেন্নাই-এ ১৯৪৮ সালে টিবি ভ্যাকসিন বিসিজি তৈরি করার ল্যাবরেটরি স্থাপিত হয় হয় আর ১৯৫১ সালে তাদের তৈরি ভ্যাকসিন সারা দেশে দেবার ব্যবস্থা হয়। ১৯৭০ সালে মুখে দেবার পোলিও ভ্যাকসিন ভারতেই তৈরি হওয়া শুরু হয়। এর পর হেপাটাইটিস, মেনিনজাইটিস আর কোভিড-এর ভ্যাকসিনও দেশে তৈরি হয় আর অনেক আর্থিক ও সংস্কারজনিত (ভ্যাকসিন নিলে অন্য অসুখ হবে) সমস্যা সত্ত্বেও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি বেশীরভাগ ভ্যাকসিন বিনামুল্যে দেবার ব্যবস্থা করার ফলে অকালমৃত্যুর হার কমেছে, আয়ু বেড়েছে। দেশে খাদ্য বেশী উৎপন্ন হওয়া আর বিভিন্ন ধরণের রেশন ব্যবস্থা সাধারণের কাছে কিছুটা হলেও পৌঁছে যাবার সুফল ফুটে ওঠে নীচের চারটি ছবিতে।

ছবি ৮- ৩৮ বছরে সদ্যপ্রসূতি মায়েদের মৃত্যু প্রতি এক লক্ষে ৬৭৫ জন থেকে কমে ১০০ জনেরও নীচে।

ছবি ৯- স্বাধীনতার পর ১৯৫০-এর দশকে ১০০টি সদ্যোজাত শিশুর মধ্যে গড়ে ১৭ জন মারা যেত। এখন সেই সংখ্যাটি ২ জন।

ছবি ১০- পনেরো বছরের নীচে কিশোর- কিশোরীর মৃত্যুহার ২৫% থেকে কমে ৫৫ বছরে তার এক পঞ্চমাংশ।

ছবি ১১- ১৯৪৭ সালে ভারতীয়দের গড় আয়ু ছিল ৪০ বছরের কাছাকাছি। এখন সেটি ৭০-এর ওপর। যেন অজান্তেই বিজ্ঞান আমাদের উপহার দিয়েছে একটি অতিরিক্ত জীবৎকাল।

সমৃদ্ধি

গ্রাম-শহরে দৈন্যদশা- বড়ই অভাব দেখি,
তথ্যে কিন্তু অভাব গায়েব- রহস্যটি কী?

শিক্ষা

শতকরা ছিল ১৭ জন স্বাধীনতার সময়,
সাক্ষরের গুণতি এখন আশি ছাড়িয়ে যায়।

ছবি ১৪- সাক্ষরের সংখ্যায় অতি লক্ষ্যণীয় উন্নতি।

ছবি ১৫- উন্নতি স্কুল পড়ুয়াদের সংখ্যাতেও। (সূত্র- আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডাটা)

ইন্টারনেট সুবিধা

আজকের দুনিয়ায় ইন্টারনেট একটি অবশ্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর স্থান নিয়েছে। শিক্ষা, চিকিৎসা বা ব্যবসা দ্রুতগতির ইন্টারনেট পরিষেবা ছাড়া চালানো অসম্ভব। ৫০এমবিপিএস ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট-এর দাম ভারতে ১০ ডলার, প্রতিবেশী বাংলাদেশে ১৩ ডলার আর পাকিস্তানে ১৬ ডলার। এই দর জার্মানি বা ফ্রান্সে ৩০ ডলারের ওপর, আর আমেরিকা বা কানাডায় ৬০ ডলারের কাছাকাছি। ভারতের প্রতি বিদেশীদের আগ্রহের একটি কারণ যুগপৎ সম্ভাব্য কর্মী বা শিল্পদ্রব্যের ক্রেতা হিসেবে ৫৫ কোটি মুলতঃ তরুণ বয়সী ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছনো।

ছবি ১৬ - কিছু খারাপ থাকলেও ইন্টারনেট যে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর সহজ প্রবেশসাধ্য লাইব্রেরী। গত ১০/১১ বছরে সেটি সহজলভ্য হওয়ার কারণ, সাধারণ মানুষের আগ্রহ, ইঞ্জিনিয়ার, শিল্পপতি ও সরকারী নীতি (নিন্দিত রাজনীতিকরাও ভাল কাজও করেন) । (সূত্র-স্ট্যাটিস্টা.কম)

গণতন্ত্রের প্রসার

নানান কথা, নানা মতের পথটি খোলা রাখে,
উদ্ভাবনে গণতন্ত্র তাই থাকে সবার আগে।

গণতন্ত্র শুধু একটি শাসনব্যবস্থা নয়। এটির সবচেয়ে বড় গুণ নানা মতের আদানপ্রদানের মাধ্যমে একটি শ্রেষ্ঠ হোক বা না হোক, কার্যকরী ও গ্রহণযোগ্য নীতিনির্ধারণের জায়গা করে দেওয়া। ভারতের গণতন্ত্র গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে পার্লামেন্ট অব্দি বিস্তৃত হওয়ায় বহু বৈচিত্রের আধার এই দেশটি ঐক্যবদ্ধ। ভারতের গ্রামগুলি বহু আগে থেকেই ছিল এক একটি স্বনির্ভর একক। ব্রিটিশ শাসনে কেন্দ্রীয় কর এবং শিল্পের কারণে বলপ্রয়োগে নীলচাষ ইত্যাদির কারণে গ্রামের স্বনির্ভরতা অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গান্ধীজী গ্রাম স্বরাজ নামে সেই ঐতিহ্যটিকে ধরবার চেষ্টা করেছিলেন। ১৯৫৯ সাল যথাক্রমে রাজস্থান এবং অন্ধ্র প্রদেশের দুটি জায়গায় পরীক্ষামূলক পঞ্চায়েতী ব্যবস্থার সাফল্য ১৯৯৩ সালে সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাবার পর গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা দেশের মাটির কাছাকাছি পৌঁছে যায়। একই সময়ে জন্ম নেওয়া পাকিস্তানের চেয়ে ভারতের এগিয়ে যাবার একটি মূল কারণ প্রথমটির বার বার সামরিক শাসনে যাওয়া এবং দ্বিতীয়টির দীর্ঘস্থায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এমন মনে করা ভিত্তিহীন নয়।

সমৃদ্ধি বাড়ে, তবু বিশ্বের নানান কোণায় অগুন্তি মানুষ আজও দীন হয়ে রয়

রবীন্দ্রনাথ সাবধান করে লিখেছেন,

“যারে তুমি নীচে ফেল সে তোমারে বাঁধিবে যে নীচে
পশ্চাতে রেখেছ যারে সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে।”

জনসংখ্যা হ্রাস, কিছু জনগোষ্ঠীর পূর্ণ বিলুপ্তির আশঙ্কার চেয়েও আশু যে সমস্যা তা হ’ল সম্পদের, জীবন যাত্রার মান, এমন কি সমাজে ন্যূনতম সম্মান নিয়ে নিরাপদে বেঁচে থাকার থেকেও বর্দ্ধমান অসাম্য।

ছবি ১৭- তীব্র অসাম্যপীড়িত দেশগুলি স্বাভাবিকভাবেই প্রধানতঃ একনায়কতন্ত্রের কবলে থাকা আফ্রিকা ও দক্ষিণ আফ্রিকায়। তবু প্রায় আট দশক ধরে সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের পথিক ভারত এবং প্রথম সমাজতান্ত্রিক দেশ রাশিয়ায় দ্রুত গজিয়ে ওঠা অসাম্যের প্রকোপ ঐ দুটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার অনুচ্চারিত কিছু ত্রুটির ইঙ্গিত দেয়। সূত্র- ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি ডাটাবেস)

ছবি ১৮- সম্পদের অসমবন্টন বিচার্য হলে দক্ষিণ (লাতিন আমেরিকা) সাহারা মরুভূমির দক্ষিণের দেশগুলি সবচেয়ে দুর্দশাগ্রস্ত। এই ছবিটি দেখাচ্ছে মানুষ বহির্বিশ্বে বা ভারতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা করে অতুলনীয় সম্পদ সঞ্চয় করলেও গড়পড়তা হিসেবে একজন বিশ্বনাগরিক তার আনুপাতিক আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত। (সূত্র- ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি ডাটাবেস)

ছবি ১৯- সবাই এক ঐশ্বর্যময়ী পৃথিবীর সন্তান, তবু জীবনযাত্রার মানে কত তফাৎ। (সূত্র- ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি ডাটাবেস)

ছবি ২০- সভ্যতা আর সুবিচারের সঙ্গীতের মধ্যেও সেই পার্থক্য এই শতকে দ্রুত বর্ধমান। দেশগুলির মধ্যে (আন্তর্জাতিক) অসাম্য কমতে থাকলেও তাদের ভিতরের (অন্তর্দেশীয়) অসাম্য বাড়ছে। এটি দেশের মধ্যে একচেটিয়া পুঁজির বাড়ার অশনিসংকেত। (সূত্র- ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি ডাটাবেস)

ছবি ২১- ভারতের অবস্থা আরও খারাপ। সম্পদ মুষ্টিমেয়ের কুক্ষিগত হবার ফলে সামাজিক অস্থিরতা বাড়তে পারে, এবং একটি স্তরে পৌঁছনোর পর সে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। (সূত্র- ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি ডাটাবেস)

স্টান্টিং ও ওয়েস্টিং এর মানে অপুষ্টির কারণে বাচ্চাদের বয়সের তুলনায় খর্বকায় হওয়া (বেঁটে) বা পেশী কম হওয়া। এ ধরণের শিশুদের আজীবন অসুস্থ আর অকর্মণ্য হয়ে পরিবার ও সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

ছবি ২২- স্টান্টিং-এর ক্ষেত্রে এই উপমহাদেশের তিনটি দেশ- ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের অবস্থান আফ্রিকার পিছিয়ে থাকা দেশগুলির সাথে তুলনীয়। (সূত্র- ইউনিসেফ)


ছবি ২৩- ওয়েস্টিং এর মানদন্ডে আমাদের উপমহাদেশের অবস্থা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। (সূত্র- ইউনিসেফ)

আজকের বিশ্বের এবং ভারতের সমস্যা হ’ল মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের বেশীরভাগকে বঞ্চিত করে নিজেদের সম্পদ বেশী থেকে আরও বেশী করার লোভ। আর সেটি করতে গিয়ে নিরঙ্কুশ আধিপত্য পেতে জনতাকে মানবেতর অস্তিত্বের প্রান্তে ঠেলে দেওয়া।

শেষ কথাটি

নিজের দোষ ঢেকে রাখলে প্রগতি হয় না ভাই,
তবু ভালো যেটুকু আছে, তার খবর রাখাও চাই।

অবস্থা যতই খারাপ হোক না যেন, কোন ব্যক্তি বা জাতি যে সম্পূর্ণ গুণহীন হতে পারে না সে ব্যাপারে সচেতন থাকা বিশেষ প্রয়োজন। স্বতঃপ্রণোদিত আত্মসমালোচনা ছাড়া উত্তরোত্তর উন্নতি অসম্ভব, কিন্তু সেটি করতে বসে নিজের ভালটুকুকে ম্নে না রাখলে আত্মগ্লানির প্লাবন আত্মহত্যাপ্রবণ করে তুলতে পারে। ইংরাজিতে বলে, স্নানের নোংরা জলের সাথে শিশুটিকেও যেন ফেলে দিয়ো না (Don’t throw the baby with the bathwater)। ‘বিগত অর্ধশতাব্দীরও বেশী সময় নষ্ট করেছি। আমরা খারাপ আছি, আরও খারাপের দিকে যাচ্ছি’ এ রকম তীব্র অনুশোচনা বা ভীতির তেমন ভিত্তি তথ্য বা ইতিহাসে যে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সে ব্যাপারে সচেতন থাকা অতি প্রয়োজন,

বৃহত্তর পৃথিবী এবং আমাদের দেশে যে বৃহৎ, মধুর কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী মানব-কল্যাণের সুর বেজে চলেছে মৃদুস্বরে তার আভাস দেওয়া, একটু আত্মবিশ্বাস জাগানো আর আশ্বস্ত করা- দুই পর্বে এ লেখার সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য সেটিই।

১৮ই অক্টোবর ২০২৫ -অরিজিৎ চৌধুরী

তথ্যসূত্র


-অরিজিৎ চৌধুরী-

  • সেন্সাস ইন্ডিয়া ২০১১ রিপোর্ট
  • World Inequality Database
  • UNICEF
  • Theory of India, Walnut Publication, 2025

About the Author:

Arijit Choudhuri, located in Navi Mumbai, petroleum geologist by profession. Interested in pollution, climate change and groundwater issues.




Comments & Related Stories

Explore more tales of imagination, emotion, and human connection.

Ganga Zuari International: Connecting Cultures Across the Globe

Join us in promoting cross-cultural dialogue, preserving heritage, and fostering global collaborations through art, literature, music, and festivals.

Latest Events View Activities
Blog - Mélange Read Articles